একবার একটা লোক তার ছেলের মুসলমানি করাবে। সকল কাজকর্ম সম্পন্ন। মুসলমানি করানোর জন্য হাজামও রেডি কিন্তু লোকটি কাজ শুরু করতে দিচ্ছে না। হাজাম এক পর্যায়ে বিরক্ত হয়ে বললো, কী ব্যাপার, আপনে কাজ শুরু করতে দিতেছেন না কেন?
লোকটা, তার নাম মোবারক ছিল, সে বললো, হাজাম সাহেব, কালো বিড়াল আনতে একটা লোক পাঠাইলাম, সে এখনো আসে নাই, তাই অপেক্ষা করতে হইতেছে। কালো বিড়াল পাওয়া কঠিন।
হাজাম অবাক হয়ে বলল, কালো বিড়াল কেন?
লোকটি বলল, মুসলমানি করানোর আগে ধামা দিয়ে কালো বিড়াল চাপা দিয়ে রাখতে হয়।
হাজাম জিজ্ঞেস করল, তাতে কী হয়?
লোকটি বলল, ক্ষত দ্রুত শুকায়। আমার আব্বারে এটা করতে দেখছি।
হাজাম বিরক্ত হয়ে উঠে গেল লোকটির বৃদ্ধ বাপের কাছে। আবার তার মনে এটাও ছিল যে, গোপন কিছু জানা যায় কি না, যেটা মুসলমানি করানো পেশায় কাজে লাগে। সত্যি সত্যি যদি এটা ক্ষত দ্রুত সরায় তাহলে তো কাজের জিনিস।
সে গিয়ে জিজ্ঞেস করল, ধামা দিয়ে কালো বিড়াল চেপে রাখার কারণ কী?
বৃদ্ধ বললেন, কারণ আছে একটা, উপকার আছে।
কী উপকার?
বৃদ্ধ এবার স্পষ্ট কিছু বলতে পারেন না।
বললেন, আমি আমার বাপরে দেখেছি এটা করতে। ক্ষত দ্রুত শুকায়।
ঘটনাক্রমে এই বৃদ্ধের বাপও বেঁচে ছিলেন। অতিশয় বৃদ্ধ হয়েছেন তিনি। নাছোড়বান্দা হাজাম তার কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করল, কালো বিড়াল ধামা দিয়ে চেপে রাখার কারণ কী মুসলমানির সময়? এতে কী উপকার হয়? ক্ষত দ্রুত শুকায় নাকি?
বৃদ্ধ বললেন, আরে না! আমার ছেলের মুসলমানির সময় আমাদের পোষা কালো বিড়াল ঝামেলা করছিল। তাই ওটাকে ধামা দিয়া চাইপা রাখছিলাম।
পুনশ্চঃ একই স্ট্র্যাটেজি সকল সময়, সকল পরিস্থিতিতে কাজ নাও করতে পারে, এবং অনেক সময় সমস্যাটি হলো এমন কোন সমাধান যা, যে সমস্যার সমাধান করতে জন্মেছিল, তার পরেও রয়ে গেছে। উপকারীতা হারিয়ে এখন নিজেই সমস্যায় পরিণত হয়েছে।